Published Date : 17th Sep, 2026 Published by Scolars Bangladesh Scoiety
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু গবেষণায় কাজ করছেন ড. আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাস্টে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জলবায়ু গতিবিদ্যায় পিএইচডি করেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গ্লোবাল মডেলিং অ্যান্ড অ্যাসিমিলেশন অফিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে সহকারী গবেষণা বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত।
তাঁর কাজের মূল বিষয় পৃথিবীর জলবায়ু ও বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনকে আরও নিখুঁতভাবে বোঝা এবং ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিস্থিতির পূর্বাভাস উন্নত করা। তিনি বৃহৎ পরিসরের বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন, জলচক্র, চরম আবহাওয়া, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বার্ষিক থেকে দশকব্যাপী জলবায়ু পূর্বাভাস নিয়ে গবেষণা করছেন।
নাসায় তাঁর বর্তমান গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্যকে উন্নত জলবায়ু মডেলের সঙ্গে যুক্ত করা। তিনি নাসার গডার্ড আর্থ অবজারভিং সিস্টেম এবং এমআইটির সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় মডেল ব্যবহার করে এমন একটি তথ্য বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে কয়েক বছর থেকে এক দশক পর্যন্ত সময়ের জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস আরও উন্নত করা সম্ভব হতে পারে। এই গবেষণায় এমআইটি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের গবেষকদের সঙ্গেও সহযোগিতা রয়েছে।
চরম আবহাওয়ার ঘটনাও তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব ঘটনার সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে তিনি কাজ করছেন। বাংলাদেশের জন্য তাঁর গবেষণার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত তাঁর একটি গবেষণায় বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে বন্যা সৃষ্টিকারী চরম মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কীভাবে বেড়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি Quarterly Journal of the Royal Meteorological Society-তে প্রকাশিত হয়।
ড. ফাহাদের গবেষণায় কম্পিউটেশনাল দক্ষতারও বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশাল আকারের জলবায়ু তথ্য বিশ্লেষণ, পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি, সংখ্যাতাত্ত্বিক জলবায়ু মডেল এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাসার একটি বিজ্ঞানী পরিচিতি প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, সাস্টে পড়ার সময়ই তিনি নিজ উদ্যোগে প্রোগ্রামিং ও জলবায়ু মডেল শেখার দিকে এগিয়ে যান। এমনকি পর্যাপ্ত সুপারকম্পিউটার না থাকায় স্নাতক পর্যায়ে একাধিক ব্যক্তিগত কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করে জলবায়ু মডেল চালানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তাঁর এই পথচলায় সাস্টের ভূমিকা তাই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাস্টের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও বলা হয়েছে, বিভাগের একজন শিক্ষার্থী নাসায় সাফল্য অর্জন করেছেন। নাসার নিজস্ব পরিচিতিতেও ড. ফাহাদের স্নাতক ডিগ্রি হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু নাসায় কাজ করাই নয়, আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণাতেও তিনি সক্রিয়। তিনি জলবায়ু মডেলিং ও পূর্বাভাস নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় যুক্ত এবং ২০২৩ সাল থেকে সিএমআইপি৭ টাস্ক গ্রুপের কো-লিড বিজ্ঞানী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোঝার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জলবায়ু পূর্বাভাসকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা রয়েছে।
সিলেটের সাস্টের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ পৌঁছেছে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে। ড. আবদুল্লাহ আল ফাহাদের গল্প তাই শুধু একজন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নাসায় পৌঁছানোর গল্প নয়; এটি দেখায়, সাস্টের মতো একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি, নিজের উদ্যোগে অর্জিত কম্পিউটেশনাল দক্ষতা এবং গবেষণার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ কীভাবে একজন তরুণ গবেষককে বৈশ্বিক জলবায়ু গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে নিয়ে যেতে পারে।
Do you think that the non-resident Bengalis should have the right to vote in the upcoming election? Justify your answer. What do you think will be the proper way to implement the voting system?